অবসন্ন চোখে পৃথিবী
১. কিছু শব্দে কখনো প্রাতে কিংবা নিশ্চুপে মানুষ জন্মায় কারো বিচলিত মঞ্চের নর্থ পুলে যেখানে শুধুই আগ্নেয় সমীকরণের কাটাকুটি। এই জটিলতায় তুমি আর আমি দুজনেই ধরাশায়ী বাস্তবতার সুক্ষ্ণ আঘাতে। কেনো এই জমা মেঘ কখনো কাঁটায় না আমাদের আসমান?
২. এপার কিংবা ওপার আমরা শুধুই স্বপ্নবিলাসী সৃষ্টি যার আমোদে মানায় না হাসি মানায় না কান্না, শুধু থমকে থাকে সময়স্রোত তোমাদের মুখে মলিন হয়ে, জমে থাকা রোজকার কথোপকথন আর হয়না মৌনতায় ভুলে যেয়ে। শান্ত সমুদ্রে আমাদের অস্তিত্বের ভয়ে আর কতো নিষ্ঠুরতা চলবে?
৩. চাঁদ নিয়ে মানুষের কতো কল্পকাহিনি কিন্তু এই নিখুঁত প্রাণের স্পন্দন কারো চোখে আঁটকায় না শুধুমাত্র মোহের আবেশে তাই মেঘবন আজ উদাস রাতে শিকার করে তোমার প্রদীপ যখন তুমি ভেঙে পড়ো এই আবছা আলোয় শান্তির উষ্ণতায়।
৪. স্বপ্নচারীর ধনুকে চাঁদ ভেঙে পড়ে তোমার বিচিত্র বিষাদে। কেনো কিসের এই আবাদে আমায় করেছো বন্দি বহেমিয়ান শিকলে? নির্জনে খুঁজি ক্লান্তির মাপ, যেথা না-জানা অজানা কখনো বিভোরে মিশ্রিত অল্প তৃপ্তির বিষাদচূড়ায় মেঘের খেলা, হাত বাড়ালেই ভাঙা টুকরো শীত মিলে, সাথে অম্ল স্বাদ আর পাগলটা খুঁজে ফেরে অদৃশ্য তীরের চাঁদ, তোমার নরকে। পেয়েছি রঙ আর সেই রাগ, ফেরত নিতে দিয়েছো জ্বালিয়ে আগুন সবুজ মাঠের মাঝে। রয়ে যায় আকাশ ভাঙা সেই মেঘের টুকরো যার দিকে হাত বাড়িয়ে বারবার তারে ছুঁতে চাই…!
৫. কারো ঔষধ, কারো বিষ, কারোর কাঁটা নয়তোবা জট, এই সাইক্লোন বয় সেই কানা নৌ-য়ের বুকে যার স্পর্শে উত্তাল ঢেউয়ের বিকৃতরূপ জন্মায় আর আছড়ে পড়ে তীরে তৎক্ষনাৎ জ্বলে উঠে বিষাদের ব্যাঙ্গচিত্র আর হাততালি পড়ে বহুরূপী রঙমুখের।
৬. গভীর রাতের বৃষ্টি শেষে শোনা যায় জোনাকির আনাগোনা। বয়ে যাওয়া শান্ত ভোরের ঠাণ্ডা হাওয়ায়, পাই তোমার ঘ্রাণ আর ভেজা মাটিতে আমি নির্দ্বিধায় করি আত্মসমর্পণ শুধু এক পলক আশা চোখে চিঠি সঁপিবার।
৭. মানুষ যে অবস্থায় থাকে সেই অবস্থার চশমা চোখেই পৃথিবীটা দেখে, এই জ্যামিতিক পর্যবেক্ষণ প্রতি একজন মানুষের চোখে নতুনত্ব সৃষ্টি করে আর ঠোঁট নড়ে উঠে ‘এভাবে দেখিনি’ কিন্তু তবুও নিজের মতোন দেখাটাকে মেনে নিয়ে স্থির থাকা কখনো নতুনকে ভালো চোখে বরণ করেনা আর তার ফলাফল যুক্তিতর্ক যুদ্ধ। নতুনরে বরণ করাটা মানেই মেনে নেয়া নয় কিন্তু মানুষ নতুনরে নিজের দুশমন ভাবে আর লেগে পড়ে ভুল প্রমানের কাজে।
৮. মানুষ কুলাঙ্গার কিংবা জানোয়ারের চাইতেও হিংস্র হইতে পারে অথবা সৃষ্টিকর্তার নিকটবর্তী প্রিয় বান্দা হইতে পারে। তার মানে মানুষের দুইটাই যোগ্যতা আছে। তাইলে কথা হইলো মানুষ কেনো হিংস্রতা গ্রহন করে? বাস্তবিক কথায় মানুষ নিজেরেই নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের ভুলে নিজেদের প্ররোচনায় নিজেদের সার্বিক জাহেলি নিয়ম প্রতিষ্ঠায় এই জানোয়ার তৈরি করে নিজেদের খোয়াব মেঠাইতে। মানুষের চরিত্রের একটা অদ্ভুত প্যাটার্ন জানা থাকার কথা, আদম হইতে আপনি আমি পর্যন্ত সবাইরে যুগে যুগে শতাব্দী ব্যাপী একটা মাত্র কথা বুঝাইতে বিশ্বাস করাইতে মানায় নিতে যে পরিমান সময় খরচ করা হইসে এবং যে পরিমান কাহিনী করার দরকার পড়সে তা কল্পনা অতীত। মানুষ চোখের সামনে কাক দেইখাও অইটারে প্যাঁচা বইলা বিশ্বাস করতে পারে এতোটাই বদ।
৯. থমকে থাকে সময়স্রোত তোমার মুখে মলিন হয়ে, জমে থাকা রোজকার কথোপকথন আর হয়না মৌনতায় ভুলে যেয়ে। শান্ত সমুদ্রে তোমার অস্তিত্বের ভয়ে আর কতো নিষ্ঠুরতা চলবে?
১০. প্রত্যেক মানব একটা ট্রাজেডির পর বড় হয়ে যায়, হুট করেই আত্মায় ভর করে বসে এক দস্তুর বড়মানুষ। বড় মানেই যন্ত্রণা আর বাস্তবতার তীব্রতায় পোড়া। সেদিনের আগ অব্দি থাকা ফাঁকাগুলোর গভীরে বিস্তৃত অরণ্যের পথ চিহ্নিত করে, এই যুদ্ধের সৈনিকেরা কখনো বহুদিনে প্রস্তুত হয় কিংবা কদিনের পাথর সমান ট্রেনিংয়ে। এমন এক সময় আসে, যখন তারা বুঝতে শেখে হাসি, কান্না, নিঃশ্বাসের মাঝে লুকিয়ে আছে এই স্যাটিরের প্রকৃত রূপ তখন কলিজায় জমে এক অদ্ভুত বিশ্বাস, তারা শিখে যন্ত্রণার পর গভীর প্রশান্তি অপেক্ষা করে। প্রতিটি ক্ষতছোপ একেকটি গল্প বলে যা হৃদয়ের নিবিড় ক্যানভাসে অবারিত সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকে। এই তীব্র আর্তনাদ জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের প্রবেশপত্র মাত্র, যা পেরিয়ে গেলে দুঃখের গাঢ় ছায়া হেলে পড়ে এক নতুন আকাশের নিচে।
Copyright © 2026 Mahidul Haque. This post is licensed under a CC BY-NC-ND 4.0 license. You may read, learn, and share links to this post for non‑commercial, educational purposes, as long as you give appropriate attribution. You may not copy, reproduce, adapt, distribute, or use this work commercially without explicit permission.