back
Copyright © 2026 Mahidul Haque. This post is licensed under a
CC BY-NC-ND 4.0
license. You may read, learn, and share links to this post for non‑commercial, educational purposes, as long as you give appropriate attribution. You may not copy, reproduce, adapt, distribute, or use this work commercially without explicit permission.
old pages, around 2023-2024
কিছু গল্পের শেষ নেই , তাহলে কি এটা আদৌ গল্প ? গল্প পড়তে পড়তে মনের ভেতর জন্মে অনেক প্রশ্ন যার উত্তর নেই। জানা অজানা কতো কথার সমষ্টিই জীবন ।
তারাপদ রায়ের কবিতাদের মধ্যে একটি হলো “এক জন্ম”। কবিতার শুরুটা এরকম ছিলো “অনেকদিন দেখা হবে না
"তারপর একদিন দেখা হবে
দুজনেই দুজনকেই বলবো
অনেকদিন দেখা হয় নি ।
এইভাবে যাবে দিনের পর দিন
বৎসরের পর বৎসর ।”
কবিতাটা আমার পছন্দের একটি । না । কবিতার মতোন কারো সাথে দেখা আমার হবেনা । তবে আপনার সাথে আমার দেখাটা হয়ে গেছে । অনেকদিনের আক্ষেপ পূরণ হলো । ধন্যবাদ আপনাকে । আপনার পরিচয় আপনার চেয়ে ভালো আর কেঊ জানে না । আমার পরিচয় টাও আপনি ভালো জানেন আমার থেকে, কিংবা জানেনও না । আপনি বড় অদ্ভুত মানুষ অন্যের জন্য অনেক কিছুই করেন অথচ “অন্যটা” কি চায় তা আপনি ভাবেনও না । আপনি আপনার মতোন থাকতে চান আবার অন্যকে নিয়েও থাকতে চান । কি অদ্ভুত না ব্যাপারটা? যদি অন্যকে পেতেই চান অন্যের চাওয়া পাওয়া দেখুন। খেয়াল করুন একটু।
ইটের খনিতে পৃথিবীর স্বপ্ন
মাটি চাপায় মৃতের মর্গ
নিন্দুকের মনে উত্তাল শামুকেরা
নিঃশব্দে এগোয় অলস পাতায়
পেস্টে মিশাই পানি
নীলাভ আসমান হাসে
ভেঙ্গে যায় মেঘেদের আনাগোনা
ঢেউ খেলে ঝর্ণার মাতমে
সেকি দীর্ঘ গান
ফুরায়না অর্থহীন
সব কবিতা আমার।
মৃতের ধ্বংসাত্মক ছোবলে ব্যথিত।
নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করো। দায়ভার নিজেরই।
গল্পে চরিতার্থ চরিত্র গুলো স্রেফ গল্পেই মানায় বাস্তবে মুহুর্তগুলোতে এরা ভিন্ন হয়ে উঠে। সেই চরিত্রের প্রেমে পড়া মানুষগুলো বোকা হয়ে বাকি জীবন কষ্ট পায়।
টানাপোড়নে চলছে জীবন। মায়া নাকি বাস্তবতা?
তুমি সৃষ্টি দিয়েছো এক জন্ম ব্যাথার। কাকপক্ষীতে মুখর ছিলো আমার মস্তিষ্ক। নীল আসমান ছিলো মেঘলা। তুমি নেমে এলে বৃষ্টি হয়ে।
পথচলায় হঠাৎই তার আবির্ভাব। খোলা চোখে তাকে দেখতে লাগলাম। সাদা সুন্দর মনে আমি ভালোবাসলাম তবু সে জানতে পারলোনা আমি তাকে ভালোবাসি। প্রচন্ড ঝড়ে অনেকদিন কথা হলোনা বিনিময় হলোনা। তিনটা বতসর পর। আমি ফিরে আসলাম। আগের মতোন নিজেদের নিয়ে মজলাম। শুধু জানতে পারলাম তুমি আর তুমি নেই। আমি যাকে নিয়ে আকাশে উড়তাম সে আর আমার আকাশে আগের চিত্তে উড়েনা। সে অন্য আকাশে উড়ে বেড়ালো। আবার যখন আমার আকাশে ফিরলো সেই উড়ায় আগের সৌন্দর্য নেই। মধ্যে দুপুরে খোলা বিস্তৃত জমিনে শুয়ে আর আগের উড়া দেখে মন আনচান করলো না আজ। আমি শান্ত দৃষ্টিতে তাকে দেখলাম না আমার জন্য উড়তে। সে এক অন্য সে আজ আমার কাছে। যে রাখার সে রাখে, যে রাখতে চায়নি সে রাখেনা, আর যে পায়নি সে ভোগে।
ঘৃণা জন্মালো।
এমনতো কথা ছিলো না?
না কি ছিলো শুধু আমি জানতাম না!
হৃদয় ক্ষত হলো। অদ্ভুত অনুভূতি হতে লাগলো। পুড়ে চলছে প্রতিনিয়ত। কেনো??
জানিনা। উত্তর জানা নেই। প্রশ্নবিদ্ধ।
সত্যি। তার প্রতি আমার সম্মান রইলোনা আগের পরিমাণে। যেখানে মায়া কমে যায় সেখানে ঘৃণার সৃষ্টি আর এরমধ্যে ভালোবাসা এক মোহ মাত্র প্রমাণিত। এই খেলায় আমি হেরে গেলাম। নিজেকে গুটিয়ে নিলাম। চাইনা।
ব্যাথার বদলে ব্যাথা নয়। সুন্দর দিয়ে ব্যাথা উপশম করতে হয়। তা বোধহয় তার জানা নেই। কখনো সে ভাবলোনা তার এতটুকু কর্ম কাছের একজনকে খুব ভুগাবে। জেনেও নিজেকে লজ্জিত করতে পারলো না। ক্ষমা চেয়ে বললে না আমি ভুল ছিলাম।
আষাঢ়ের শেষের কোন এক দিন।
সন্ধ্যা হবে হবে, পড়ন্ত বিকেল। পুরো দিন কড়া রোদের শেষে নীল আকাশে ভাসা মেঘেরা নিজেরদের কারিশমা দেখাতে জমায়েত। জানালার পাশে শুয়ে ঘন্টাখানেক পার করার পর অবশেষে বৃষ্টির দেখা পেলাম। সুন্দর। তোফা। মাশাল্লাহ।
বারান্দায় লাগানো ফুলের টবে জানালা বেয়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোটায় পাতা-পাপড়ি নিজেদের মধ্যে স্নানরত। জানালার শিকের ফাঁকে বাড়ানো হাতে শীতল ছোট ছোট বৃষ্টির ফোঁটা। আহা স্পর্শ। গত জীবনের ফিরে পাওয়া স্মৃতিরা যেনো স্পর্শে কাতরতা বাড়িয়ে দেয়।
সময় এক অদ্ভুত সার্কাস। সময় সামনে চলে কখনো পুরনো সময়কে নতুন রুপ দিতে পারে। পুরনো সময়ও কখনো ফিরে এসে ভুতের মতোন উদয় হয়। জীবনের বিপদসীমা পার করে দিয়ে চলে যায়। কখন যে বর্ডার ক্রস করে বসে আছি নিজেই জানিনা। যদি পুরো জীবনের সমীক্ষা দেখি সময়কেই শত্রু রুপে দেখবো।
অন্তরদগ্ধ লেলিহান দাবানলের শিখায় খুজিয়া বেড়াই অপরুপ তোমায়
মস্তিষ্কে আমার নরক পোকা
সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড়ে আমি বোকা
তুমি যেদিন দেখা দিলে
এ জীবন কেড়ে নিলে
তুমি চাঁদের মতোন।
মেঘলা হয়ে গেলে বারবার চাঁদটুকু দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠি।
তবুও এই মেঘলা অন্যরকম দেখায়।
আমি আদৌ জানিনা কার প্রেমে পড়েছি।
চাঁদের নাকি মেঘের??
নাকি দুজনেরই!
দয়াল পাঠাইয়াছো কোন নগরের ফটকে
কেনো থাকি এই ফকির বেশে অমৃতে
যাচিনি তবু এক গজের জীবনে
কি নাটক সাজাইয়াছো
কি মরমে পাঠাইয়াছো
তারে তুমি দেখাইয়াছো
আমার হৃদ প্রাচীরে
অপার্থিব
প্রাতের বারান্দায় বসে আমি
শুনছি তোমায়
কাঁদছো নিরালায়
ঝড়রাতে কেনো ভয় পাচ্ছো
আমি অন্ধ হয়ে বাঁচি
জানিনা যা দেখিনি
চাইনা তা দেখতে আর
ঢেকে রাখিই আমার দুটি চোখ
আমি দেখতে পারিনা
জানিনা
কেনো দেখি তবুও
অবিরত নিজেকে আর রাখবো কতো?
মাঝরাতে ঘুম ভাঙে
তোমায় ভেবে
দেখতে পাই ছুটছে তারা
নীল ক্যানভাসে
ঈষৎ কালোমেঘ হাঁটে
আর আমায় দেখে চুপটি করেএ
মিশে গেছো নাকি ওদের মাঝে
নাকি বৃষ্টিতে এসো নেমে?
আমায় কি তোমার মনে পড়ে?
শরৎ এর কোনো পড়ন্ত বিকেলে। নীল আসমানে ঘন মেঘের টুকরো, লালচে আভায় রক্তিম দেখাচ্ছে। দক্ষিণ থেকে হঠাৎ হঠাৎ পরশ হাওয়ায় নড়বড়ে নৃত্যরত পর্দাগুলো দু-তলার রুমের খোলা জানালায় উঁকি দিচ্ছে। সিলিং এ স্বল্প গতিতে ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা। বয়সী কাঠের টেবিলে থুতনিতে হাত রেখে উবু হয়ে বসে রাফ খাতায় কলম দিয়ে আঁকাআকি করছি। উদাস মন। তরুণ বয়সের উদাসী এক প্রকার ভাইরাস, আমার ক্ষেত্রে কারণটি ভিন্ন। মাঝে মধ্যেই উদাসীনতায় ভুগছি। কেনো ভুগছি তা জানিনা। ভুগার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। প্রথম প্রথম তিক্ততা অথচ শেষ পর্যন্ত এই তিক্ততাই আসক্তিতে পরিণত হয়। এই বর্তমান সময়ে মানুষ এই আসক্তির মুরিদে পরিণত হয়েছে। ব্যাপারটা আমার কাছেও কিরকম জানি ঠেকছে।
দালানেরা বোবা নিশ্চুপ
মূর্ছনা হারা কাকেরা ডাকে
সাদা মেঘের ছিটা মন ভেজায় দু-টানা
কে করে কবুল তোমার হৃদয় বাসনা
বিশাল আবৃত হৃদয়ে গভীর যখম
মেয়াদোত্তীর্ণ বিদঘুটে ভালোবাসা
কিংবা শাড়ির আঁচলে বাঁধা
পশ্চিমা'কাশে পশলা বৃষ্টি
শান্তিতে বেঁচে থাকে পিচাশ।
বহমান স্রোতে চলে ইন্জিন
পানি হামলে পড়ে ভালোবাসায়
রোজ দুপুরে ঘনকালো মেঘেরা
পিপাসা মেঠায় বৃষ্টির ফোঁটায়
ভেজা গায়ে ধোঁয়া ফোকায় কাপ্তান
ফের রাতে তারার উৎসবে
চোখ মুদে পিচাশ।
স্বপ্ন 'আবার ভালোবাসা'
গোধূলিতে ডানা মেলা কোহেলির কোলাহল
ময়ূরের ক্যানভাসের দিগন্তে জমা মেঘদল
ধূসর নীলায় আমার লক্ষী প্যাঁচা
ঘাসবনে উন্মাদ মুক্তির নীড়ান্জনা
আঁটকে গেলো চোখ
বেঁধে নিলো এ যুগ
স্বপ্নেরা পালালো, দেখায় ছলনা
জীবনের গতি আটকে রয় একি স্রেফ কল্পনা?
আমার হাতটা ধরো
টেনে নিয়ে চলো আঁধারে
যেখানে মিশে ক্ষয় এ জীবন বন্দনা
যাপিছি জীবন পথের প্রান্তরে
নাহি সমঝোতা পৃথিবীর তরে
একি অপবাদ নিষ্পাপ পাপরাজ
করিছি অনশন নিজ সাথে।
সাদা চোখে নেই পাথর
শূন্য দৃষ্টিতে ঈগলের প্রতিচ্ছবি
আপন কবিতারে করেছি পর
ভ্রান্ত মন চোখে মেঘ ঝাপসা ভ্রম।
ধুলিমাখা পথে ব্যস্ততা জীবনের
নাই উচ্ছাস হাসি স্বপ্ন
রঙিন এ আসমান একা কাঁদে পাখি
বিলিয়ে দিতে যাই আশা
ফিরে আসি রোজ খালি হাতে
কত কথা বলা হয়না
কত কথা জানা যায়না
ডুবে ডুবে আক্রোশে
শিথিল রক্তকণা।
অপেক্ষা কতকাল জানিনি এতো নির্বোধ,
পরিশেষে ক্লান্তি হতাশা হাহাকার ভালোবাসায় ।
আজ ২২শের রাত
তোমার চোখ ঘুমহীন
আমার মন উত্তাল
রবো দুজনে চুপচাপ
দাড়িয়েছি আজ
বহুদিন পর
বহুরাত পর
ক্লান্ত চোখ কপালে জমা বিন্দু চিন্তা
এক ঝাপস আকুতি,
চাইছি তোমায়
আমার অনর্থক লিখা খাম
চলছে আলোছায়ার খেলা
জেনেছি প্রাপকের মায়া
চিন্তিত মনে রোজ লিখি
জেনেছি,
শালিকেরা ভালো নেই
কেন যে তা জানা নেই
দীর্ঘ লাইনে তোমায় জানাই
ভালোবাসি রোজকার।
আমি এক সুপার ভিলেন যান্ত্রিক সাজে
চারদিকে কুয়াশায় গাঢ় অন্ধকার তাড়া করে বেড়ায়
প্রতিদিন নিত্যকাজে
লৌহবর্মে ঘেরা আমার পাঁজর
দেখো খন্ডিত উদাসী আলোয়
নির্ঘুম দু-চোখ পালাতে চায়
তবু শুধু মায়ার মোহনজাল
বিভোরে দেখা carpokar স্বপ্নজাল
অন্তরের শ্লোক কবুতরের ন্যায় ডানা ঝাপটায়, চোখে নীল দিগন্তের স্বপ্ন দেখা দিবে, তার সুরে ছড়িয়ে পড়বে শীতল ছন্দ এইইই সুখ। চারদিকের এক নিরবতায় নীল আসমানের পানে মুগ্ধতা।
বিষাদ মাখা এই পৃথিবীর তিক্ত রূপ আমার কালো হৃদয়কে হত্যা করেছে।
জীবন হোক রোজকার গল্পের বিষয় বস্তু। তর্ক হোক জীবন নিয়ে। চলুক যুদ্ধ জীবন নিয়ে। হয়তো গল্পের তালে চেচিয়ে উঠবো জীবনের সব আক্রোশ প্রকাশ করতে। বেরিয়ে পড়বে শতদিনের জমা ক্রোধ আমার রগে রগে।
নদী। স্রোত। ঝুমঝুম।
ক্লান্ত মনের কোণে একবিন্দু ফূর্তি। জয়জয়কার শুধু হতাশার। সত্যিই কি হতাশ?
মানুষ ডানা চায়। ডানা নিয়ে পাখি সত্যিই খুশি?
আমি চাইবোনা ডানা। কোনো সাগরের মাঝে এক বদ্বীপের
কোণে তোমায় নিয়ে বসতি চাই। কাঠের তাবুতে খোলা জানালা। প্রতি ঝাপটায় ভেসে আসে লবণ কণা। তোমার মলিন মুখে জমা মেঘের মধ্যে থেকে হঠাৎ রোদ এসে পড়ে। রাত গভীরে শোঁ শোঁ হাওয়ায় আমাদের চিন্তার আল্পনা ভেঙে যায়।
এই শহরের নীলিমায়
পুড়ে ভবঘুরে কবির পাঞ্জাবী
পুড়ে ছাই আমার নারীর কালো শাড়ি
দেখো ছাই আমার শিশুর রক্তকণা
বাতাসে গন্ধ পুড়া
মর্গে আমার স্বাধীনতা
এই অভাবের শব্দে
কবিরা নামে ব্যাকরণ বিদ্রোহে
বানোয়াট বীরবন্দনা
বাতাসে পুড়ে উড়ে শহর ঘুরে।।।
না ফেরা পিয়ন, আনেনা
শুকনো লালায় জড়ানো চিঠি
তোমার সুবাসে আমি মাতাল
গহীনে উঁকি তোমার কালো খোঁপায়
গাথে ফুল হারায় আঁধারে
মায়ার মিছিলে
আজো আমি হন্য
তোমার ঘুঙুরের আওয়াজ
ধরাশায়ী প্রাণ হারাই
তোমার সুরেরটান, আমি পালাই।।।
কালো ফ্রেমের সংসারে
নির্জন এই মাঠে মাতি বন্যতায়
ধারক সূত্রে তোমায় আটকে রাখি
দু'পাশ ঘিরে এক শূন্যতায়
হাইওয়ে টু হ্যাভেন
মুমূর্ষু যাত্রী লড়ে বিজয় নিশ্চিতে
দাবী আর অধিকারে উত্তাল হাইওয়ে
স্লোগান ধ্বনি আকাশে, সুরে এক কামনা
নির্ঘাত কবিগুরুর আত্মঘাতী সিরিজ
পাঠকেরা মাথা ঠেকায় 'রাজা'
তবুও রাখালের ঘাম জমির তৃষ্ণা মেটায়
ইমামের কন্ঠে আজ ভুবন মাতানো কাব্য
খোদা হাসে হুরেরা নাচে যৌবন ফিরে যায়
প্রেমে উত্তাল যুবকের রক্তে মিশে
হাজার নন্দিনী-তিতুমীর হাইওয়ের ট্রাকে পিষে
মমতায় সন্তান হুঙ্কার করে 'মা'
রবে তুমি স্রষ্টার মডেল প্রতিমা
তোমার চোখে বৃষ্টির উপলব্ধি
আমার বুকে মেঘেদের তিক্ততা
জানালার শিকে বর্জপাতের গাঢ় ছায়া
পৃথিবীর বুকে উপগ্রহের অভিশাপ।
ফিরে পেতে চাই
তোমায়
তুমি
তোমাকে
তুমি ছাড়া আমার নীলে
মেঘেদের আর্তনাদ
নির্জনের দারুচিনি
তোমার নামে পাঠানো চিঠিগুলো
পড়ে থাকে প্রাণহীন লাল বাক্সে
তোমার খোঁপায় গাথা রজনীগন্ধা
প্রশ্নবিদ্ধ মোর প্রেম অকার্য মায়াগুলো।
সন্ধ্যা সকাল চলুক হাওয়া
উড়ে যাক আমাদের স্মৃতি যা হয়না পাওয়া
অদুরেই রবে কামনা ঘেরা
পাঁচিলের নাট্যে অভিনয়, নাম 'আবার ফেরা'
comedy-
নিষিদ্ধ নগরের নির্জনে
স্বাগতম তোমারে
এ শহরের হাড্ডিসার আদম
আইডলে পাপ ফেন্সি মদের বোতল
বট বৃক্ষের ঝোপে উন্মুক্ত স্তনযুগল
নিশাচরে পাতার ধোঁয়া, দেখি ভাশটে ভাবি কুয়াশা
পুড়াই নোনা মুহুর্ত,খাবো আজ,ভুলবো হতাশা
আমার মস্তিষ্কে ছাড়পোকার কবল
চোখে ভ্রমর উড়ি মহাকাশ বেগ প্রবল
কয়লার স্বর্গে লাশ চাপাই
সংসারের জোরা তালি ছেড়ে পালাই
কাঁদে শিশু সংসার স্বর্গে পুড়ে মা
মণি পুড়াই, আজ নববধূর ওলিমা
কয়লার দুর্গে আমার জানালা
দেখি নগরের এ পথ অপথ রক্ত নালা
লিখে চলি নির্মম কাব্য
যাতে জমা পৃথিবীর অধিকার
মানুষের শ্রেষ্ঠ প্রাচ্য।
দৈবক্রমে আমার জীবন পদার্পন শুরু, শেষ হবে অমনিতেই। কাঁধের ঝুলায় ভরেছি পাপ আর জানা না-জানা সুখের মুহুর্ত।মোর পাপিষ্ঠ হৃদয় নরকে ঝলসাবো, তোমার রক্তিম ঠোঁট জোড়ায় লিখে দেবো লাল বনলতার কাব্য
একটা ছবির বাক্স চাই।
যে বাক্সে জমাবো দু-চোখে দেখা নিয়তির সিনেমা, কিংবা পাগলের ভাঙাচোরা কথা, জমাবো বসন্তের মোহনিয় চোখের চাওয়া কিংবা বেসুরো গলায় গাওয়া কোনো উন্মাদের গান, বন্দি করবো মর্গের বিছানায় শোয়ানো সৈনিক। আরও জমাবো আমার মায়ের ভুবন মাতানো রঙিন সেই হাসি , বাক্সে বন্দি করে দেবো আমার তিক্ত জীবনের স্বাদে না পাওয়া বাবার চাঁদ মুখ খানা।
একটা ছবির বাক্স চাই।
শৈশব
তিন তিন গুণে নয়
মাটির মানুষে মাংসের অপচয়
হৃদয়হননে কালনাগিনীর অভিশাপ
শেষমেশ চুরমার, জন্মের পাপ
আমারে ফিরায়ে দাও অপূর্ণ শৈশব
বিদ্যুৎতে পুড়ে ছাই
আনন্দ নাই
ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস
হেমন্তে আবার সর্বনাশ
হরিণ চোখে স্বর্ণ
বিষাক্ত শহরে পুতুল মর্গ
নিশুতি
দুপাশে ভারী হলুদ আলোর ল্যাম্পপোস্টে ঘর্মাক্ত শার্টের ভেতর ছায়া । শহর আজ নির্জন বাগান। শুধু অভাব এ রাত ভাঙা শিশুদের কোলাহল। খালি পকেটে গৃহে না ফেরা তিন চাকার চালক গভীর ঘুমে আজ, মাথায় নতুন ধ্যান, বাড়ি ফিরবো না আজ, সন্তানের কান্নার মজলিশের চেয়ে এই নির্জন চাঁদের খেলা উপভোগ্য বোধহয় বেশি তাই প্রহর ভুলে মৃতের ভান ধরলো।
আয়নার প্রতিবারের বিশ্বাসঘাতকতা
মেনে নিতে হবে
ধরে নিতে হবে হ্যাঁ এটা আমিই
কিন্তু আমি না
বড় মিথ্যাবাদী এ বিম্ব
কেনো এ নিষ্ক্রিয় প্রতিফলন?
অদ্ভুত বাসনার বসে ফিরে তাকানো
ভীত আমি বিরক্ত হচ্ছি না
কাক নিঃসঙ্গ প্রমাদ গুণে
একাকী অক্সিজেন আগুন জ্বেলো
আমার বিকিরিত লাশ দেখে হেসো
এইযে আমি আভীসদের শ্রোতা
নিঃস্বাসে ভুয়া দীর্ঘশ্বাসে ক্লান্তির চেষ্টা
ছন্দহীন এ লাইনে সুখ খুজি
পাইনা বলে আমি নিজে পথে ভ্রষ্টা
তুমি বেঁচে থাকায় হৃৎপিণ্ডের রক্তাক্ত জখম যেখানে জমাট বাঁধেনা কখনো রক্ত, বাঁধে আমাদের ভাঙা যাযাবরের জমাট। এ মিথ্যা আয়নার চেহারা আমাদের ভাগ্যের প্রতিফলন। সৈনিকের শেষ চিঠিতে থাকে প্রিয়তমার প্রতি শেষ লাইন '...আর ফেরা হবে না জানি। বুলেট জমা এ হৃৎপিণ্ডে শেষ স্পন্দনে তোমাকে চেয়েছে কারন তুমি বিশুদ্ধ অক্সিজেন। ভালো থেকো.....'
বর্ণের ভুলে
'আমার' ধ্বংস হলেএ
চর্কার প্লাবন দেখে
বিদ্যুৎ চমকায় ভোগীর চোখে
নিশ্চুপ মোর ধাত্রী মাতা
বুকে রাখে শ্রেষ্ঠ বিধাতা
বহুকালের নীতি ভেঙে
লড়ে জীবন তরীর নাঙে
এলোমেলো কামেলী
ফুঁটে কাঁদে ঝড়ে চামেলি
নিষ্চুপ ধাত্রী মাতা
বুকে রাখে নরক বিধাতা
অপদেবতার আয়োজকেরা
মরো মরো মরোও
ফুটুক আবার কামেলী
নরকে জ্বলুক অপদেবতারা
ফুটুক আবার কামেলী
ধাত্রী তুমি বাঁচো বুকে স্বর্গ বিধাতা
এক গুচ্ছ অনাকাঙ্খিত স্বপ্নজাল
একটি আক্রান্ত হৃদপিণ্ড
আর এক ব্যাধি
যন্ত্রণা
শেষ একবার শোয়ানোর আগে দেখে নিলাম তোমারে।
মায়াবী মুখ যেনো নববধূ সাজে বাপের বাড়ি ফিরছে নারী।
কাফন যেনো তোমারই পরা বিয়ের লাল রঙা শাড়ি।
কবরে নামানোর আগে তোমার প্রেমে আরেকবার পড়লাম।
শুভ্রের লিখা নীলকান্ত,
'কবরে নামানোর আগে লাশের মুখটি শেষবার
দেখার মতো করে তোমারে দেখি প্রতিবার'
গোধূলিতে ডানা মেলা কোহেলির কোলাহল
ময়ূরের ক্যানভাসের দিগন্তে জমা মেঘদল
ধূসর নীলায় আমার লক্ষী প্যাঁচা
ঘাসবনে উন্মাদ মুক্তির নীড়ান্জনা
আঁটকে গেলো চোখ
বেঁধে নিলো এ যুগ
স্বপ্নেরা পালালো, দেখায় ছলনা
জীবনের গতি আটকে রয় একি স্রেফ কল্পনা?
আমার হাতটা ধরো
টেনে নিয়ে চলো আঁধারে
যেখানে মিশে ক্ষয় এ জীবন বন্দনা
পৃথিবী ও দূষণ
আমি নিকৃষ্ট
আমি জুলুমকারী
আমি তোমায় হত্যা করে পাপের কারাগারে বন্দী
আমি অবিচার করে বুঝিনি
আমার শীতল হৃদয় শতকের মৃত কীট
আমি মিথ্যা বকে অনড় দাঁড়িয়ে ভাবিনি
আমি কলঙ্ক আমি ভয়ানক
যেখানে স্বপ্নের শেষ সেখানে বেঁচে থাকার শুরু।
জীবনের জোড় সংখ্যায় আমি উদগ্রস্ত ।।
খুঁজে ফিরি তোমার ঠিকানা
হাওয়ার সাইকেলে স্নিগ্ধ প্রাতে।
‘অন্তর হইলো পুড়া’
তোমার আমার নিশ্চুপ দৃষ্টিই অনেক দিনের আলাপন।
জং ধরা আবুলের হাড় আর চলেনা ডিজেলএ
বন্ধ চোখ পৃথিবীর গভীর সুখ কিংবা দুঃখের উৎস। বন্ধ চোখ কথা কয় 'সব দেখতে নাই কিছু অদেখা অনুভব করতে হয়'
তুমি জ্ঞানীরে হত্যা করো মানে পুরো এক জাতিরে কবর দেও।
'জীবনটা গভীর কূপ, যার শেষ প্রান্তে পৌছার আগ পর্যন্ত শুধুই প্রশ্নের ঝাঁক ডানা ঝাপটে উঠে আসতে থাকে। যখন শেষটা ছুঁতে পারবেন তখন আপনার প্রশ্নগুলো হারিয়ে যাবে হাওয়াই মিঠাইর ন্যায়। অপর প্রান্তের প্রতি তীব্র টান আপনাকে আলোর বেগে নিয়ে চলে সরলরেখার শেষ বিন্দুতে। প্রস্তুত তো?'
তুমি সাজো স্বপ্নমাখা রঙে
ফাল্গুন এলোগেলো আমায় কি তোমার মনে পড়ে?
দেখো ডালিমের রঙা ক্যানভাস রক্তবর্ণ তোমার রুপে
আমিও আঁকি জলছবি সেই ঘোলা চাঁদে
তবুও কাটে না সময় তুমিহীনা আজ প্রাতে।
নীল শোভা তোমায় বাসি ভালো
বিকেল বটবৃক্ষে অপেক্ষায় তোমারই
দেখো এইযে
সব কুয়াশা নিচ্ছে বিদায়
শেষবেলা বাসছে ভালো পড়ন্ত রোদ আলোয়।
অবশেষে তুমি এলে থেমে যায় আমার দম
ফুরায় দোয়াতের সব কালি
হয় সব বাক্য অগোছালো
শোনগো রমনী জ্বলিয়োনা আমার অন্তরখানি
তুমি আমারই ছিলে থাকিবে চিরোদিন
লিখছে তোমারই নীল।
ফাল্গুনের শেষ বিকেল। দু-তলার বারান্দার বেঞ্চে অপেক্ষারত আমার নারীর। ক্যাম্পাসে চলে বসন্ত উৎসব। দূর মাঠ থেকে ভেসে আসছে জওয়ানের কন্ঠে বসন্তের শান্ত গান। মনে হচ্ছে শতবর্ষ দূরে তোমার অপেক্ষায়।
শীত শেষ হলো। আসিতেছে বৃষ্টি মুখর দিন। চৌরাস্তায় ফুটবে আবারো রাঙা নীল। শেষ বিকেলে জমবে পাড়ার ক্রিকেট। মজবো তোমার চায়ের কাপে। জোস হবে আম্মার খিচুড়ির প্লেট কিংবা ভেলপুরিতে পেট।
থেমে থাকেনা।
শুকরিয়া আমি বাস্তব, আমি তোমার কেউ একজন। যা দিয়েছো রাখিনি যত্ন করে, এতটুকু জেনেছি যা-র যোগ্যতা ছিলো না, সে-ও পেয়েছে তোমার অপার দয়া থেকে।
যদি জানতাম, আমার সময় ফুরোবে কোনো শরতের বৃষ্টি ভেজা জমিনে শুয়ে, তোমার দিকে মুখ ফিরিয়ে হয়তো বলতাম "আজ নয়, পরশু।" কিন্তু সেই পরশু কখনো আসতো না।
কি ছোট্ট সময়, ক্ষণিকের দম বন্ধ করা উত্তাপ বুক। জ্বলন ফুরোলে ফুরায় পুরো পৃথিবী। যে চলে যায় শেষ বাসে, তার পৃথিবী পড়ে রয় সেই স্টপেজের কোনো এক কোণায় অসহায়, একা, পরিত্যক্ত।
সময় এগিয়ে যায়, শূন্য পৃথিবীগুলো বদলায়, কিন্তু কেউবা থেকে যায় কোনো এক ক্লান্ত বিকেলের থমকে যাওয়া মুহূর্তে। কেউ কেউ থেকে যায় অপেক্ষার স্থবিরতায়, তারা আজও বিশ্বাস করে সেই বাস আবার ফিরে আসবে, হয়তো অন্য কোনো গোধূলির আলোয়, অন্য কোনো শরতের বৃষ্টিতে… আলীর মতোন আমারো জানার ইচ্ছা, কেনো সেই পৃথিবী চলে যায় অন্য এক ঠিকানায়??
নিখোঁজ, ঠিকানা, চিঠি
বিলীন হইতে চাই মাঝেমধ্যে।